কোটিপতি সাহাবি pdf - আরিফুল ইসলাম pdf

কোটিপতি সাহাবি pdf - আরিফুল ইসলাম pdf


‘সাহাবিরা গরিব’ ছিলেন এমন ধারণা অনেকের মধ্যে আছে। সাহাবিরা কি আসলেই গরিব ছিলেন নাকি তারা স্বেচ্ছায় এমন জীবনযাপন করতেন যা দেখে মনে হয় তারা ‘গরিব’?
খায়বার বিজয় পরবর্তী মুসলিম দুনিয়ায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটে। বেশিরভাগ সাহাবির অর্থনৈতিক জীবন পাল্টে যায়। পাল্টে যাওয়া অর্থনৈতিক জীবন তারা কীভাবে যাপন করেন এই নিয়ে বইটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

কোটিপতি সাহাবি pdf - আরিফুল ইসলাম pdf



অনেক সাহাবি ছিলেন কোটিপতি। মৃত্যুর আগে তারা কয়েকশো কোটি টাকার সম্পদ রেখে যান। যাদেরকে আমরা ‘গরিব’ বলে জানি, তারাও পর্যন্ত একদিনে কোটি টাকার সম্পদ দান করতেন। সাহাবিদের অর্থনৈতিক জীবনের অজানা অধ্যায় নিয়ে এই বই।

অনেকেই মনে করেন যে, সম্পদশালী হওয়া বা ধনী হওয়া খারাপ জিনিস। কিন্তু, ইতিহাস আমাদেরকে এমনটা বলে না। সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন সম্পদশালী।
উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যেদিন শহীদ করা হয়, সেদিন তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিলো ১,৫০,০০০ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা), ১,০০,০০০ দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা)। নগদ অর্থমূল্যের পাশাপাশি কুরা ও হুনাইন উপত্যকায় তাঁর জমি ছিলো, উট ও ঘোড়া ছিলো; যেগুলোর অর্থমূল্য ছিলো ২,০০,০০০ দিনার।

যুবাইর ইবনুল আউয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি প্রপার্টি ছিলো, যার অর্থমূল্য ৫০,০০০ দিনার। সেই জায়গায় তাঁর ১,০০০ টি ঘোড়া ছিলো।
তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইরাকে ব্যবসা ছিলো। সেখান থেকে তাঁর আয় হয় ১,০০০ দিনার।
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুর আস্তাবলে ১,০০০ টি ঘোড়া, ১,০০০ টি উট ও ১০,০০০ টি ভেড়া ছিলো। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সম্পত্তির চারভাগের এক ভাগের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮৪,০০০ দিনার। [Dr. Nazeer Ahmed, Islam In Global History: 1/147-148]


এই চারজন সাহাবীর মধ্যে প্রত্যেকেই দুনিয়ার বুকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত। তারা এতো সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও জান্নাতে যাবেন, ইন শা আল্লাহ।
সাহাবীদের সময়ে ২০ দিনার বা ২০০ দিরহাম সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হতো। বর্তমান সময়ের অর্থমূল্যে যা আনুমানিক ৫,৩৫,৫০০ টাকা।

তাহলে চিন্তা করুন, সেখানে তাঁদের সম্পদ ছিলো দুই লক্ষ দিনার, দেড় লক্ষ দিনার, এক লক্ষ দিনার। এখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, সাহাবীরা একই সময় এতো সম্পদশালী আবার দুনিয়াবিমুখ কিভাবে হোন? সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও কি দুনিয়াবিমুখ হওয়া যায়?
আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু দুনিয়াবিমুখতার একটি সংজ্ঞা দেন। তিনি বলেন:

“বিমুখতা মানে তুমি কিছুর মালিক হবে না, তা নয়। বরং বিমুখতা মানে হলো কোনো কিছু যেনো তোমার ‘মনিব’ না হয়।” [মিযানুল হিকমাহ: ৪/২৯৯০]
সাহাবীরা সম্পদের মালিক ছিলেন। কিন্তু, এই সম্পদ তাঁদের হৃদয়ে ছিলো না। এই সম্পদ ছিলো তাঁদের হাতে। হাতে যখন সম্পদ থাকবে, তখন সেটা সহজে দান করা যাবে। কিন্তু, সম্পদ যখন হৃদয়ে স্থান করে নেবে, তখন সম্পদের প্রতি ভালোবাসার কারণে দান করা সহজ হবে না।

সম্পদের মালিক হতে আল্লাহ নিষেধ করেননি। সম্পদ পুঞ্জীভূত করে রাখতে, জমিয়ে রাখতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন।
আপনি হালালভাবে সম্পদের মালিক হবার পর যদি যাকাত দেন, সাদকা করেন তাহলে আপনি মানুষের উপকার করতে পারবেন। এই উপকারের ফলে আপনি সওয়াব অর্জন করতে পারবেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।” [সহীহ বুখারী: ১৪৭২]
উপরের হাত হলো দাতার, নিচের হাত হলো গ্রহীতার। ইসলাম আমাদেরকে দাতা হতে উৎসাহিত করে, গ্রহীতা হতে নয়। আপনি কিভাবে দাতা হবেন, যদি না আপনার হাতে সম্পদ থাকে?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে দেখতে পাই, যখনই কোনো অভিযানের জন্য অর্থের প্রয়োজন হতো, তখন ধনী সাহাবীরা এগিয়ে যেতেন। আবু বকর, উসমান, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাঁদের অর্ধেক সম্পদ, এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ দান করতেন। আর্থিক সঙ্কটের সময় ধনী সাহাবীরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।




Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form